ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়াত খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের একজন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই বিশাল শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গোটা তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জানাজায় ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই। এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার ইসমাইল কানিও জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এই জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। খামেনির শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দমনপীড়নের শিকার হওয়া নাগরিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় এই আয়োজন সবার জন্য শোকের নয়; বরং দীর্ঘ শাসনামলে নানা সংঘাত ও সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের কাছে এটি এক ভিন্ন বেদনার অধ্যায়।
এদিকে এই জানাজাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় কৌতূহল তৈরি হয়েছে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে। বাবার এত বড় রাষ্ট্রীয় জানাজায় তাকে অংশ নিতে না দেখায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন বা কেন এই জানাজায় অনুপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি।