সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বরিশালে আবাসন এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া সেই লিটু ও সহযোগী গ্রেফতার

বরিশাল নগরীর অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে কক্ষে ঢুকে মারধর এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক কোটি টাকার চেক ও স্ট্যাম্পে

বরিশাল নগরীর অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে কক্ষে ঢুকে মারধর এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক কোটি টাকার চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনার মূলহোতা মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে এই ঘটনায় জড়িত তার অন্যতম সহযোগী আবুল কালামকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) বেলা ২টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের ‘টপ টেন’ নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত লিটু নগরীর কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা এবং আবুল কালামও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ জানান, আবাসন ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের মিডিয়া সেল, গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশকে মাঠে নামানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার দুপুরে মূল অভিযুক্ত লিটু ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের প্রধান কার্যালয়ে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এমডি আব্দুল আজিজের কক্ষে হঠাৎ চার যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু সরাসরি এমডিকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আব্দুল আজিজের অণ্ডকোষ চেপে ধরে তাকে চরম যন্ত্রণার মুখে ফেলে দুটি চেকে এবং সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। মারধরের সময় আজিজ বাঁচার জন্য ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে চিৎকার করলে বাইরে থেকে একজন কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন, কিন্তু লিটুর সহযোগীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর সেগুলোর ছবিও তুলে নেয় অপরাধীরা।

নির্যাতনের শিকার এমডি আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, লিটু একসময় অগ্রণী হাউজিংয়ের অংশীদার ছিলেন। তবে তার বিনিয়োগের বিপরীতে তাকে যথাযথভাবে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তা বিক্রিও করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কাছে লিটুর আর কোনো পাওনা নেই মর্মে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামাও রয়েছে। এরপরেও লিটু দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে অন্যায়ভাবে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু তার দলবল নিয়ে আমার কার্যালয়ে ঢুকে আমাকে নির্যাতন করে। তারা জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি ব্ল্যাংক (সাদা) চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। ঘটনার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি অবহিত করায় তারা কোনো টাকা তুলতে পারেনি। পরবর্তীতে আমি সিসিটিভি ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করি এবং গত বৃহস্পতিবার আদালতের দ্বারস্থ হই।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার আদালত আব্দুল আজিজের নালিশি মামলাটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

অবশ্য গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেছিলেন, সেদিন যারা কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আব্দুল আজিজ পরিচালকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে পাওনা টাকার জন্য এভাবে অণ্ডকোষ চেপে ধরে নগ্ন নির্যাতন ও জোরপূর্বক চেক লিখে নেওয়ার মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে এই ঘটনাটি এখন বরিশালজুড়ে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন