দেশে বর্তমানে কোনো সংগঠিত জঙ্গিবাদী তৎপরতা বা বড় ধরনের উগ্রবাদী সংগঠনের অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তবে কিছু মানুষ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের তালিকা, ভুয়া মামলা, পুলিশ সদস্যদের অনিয়ম, মাদক ও চাঁদাবাজি বিরোধী অভিযান এবং আওয়ামী লীগের বিচারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবি হরফ লেখা পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় কারা জড়িত এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু সংগঠনকে চরমপন্থি বলা যেতে পারে। তবে দেশে বড় কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশে উগ্রবাদী বা মৌলবাদী কোনো শক্তির উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও সরকারের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা দুই হাজারের বেশি হতে পারে। কারণ স্বৈরাচারী সরকারের পতনের আগে অনেক হাসপাতাল থেকে নথিপত্র গায়েব করা হয়েছে, লাশ গুম ও অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে। গণকবর থেকে উদ্ধার মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে শহীদের তালিকা আরও বাড়বে।
নির্বাহী বা প্রশাসনিক আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে সরকার ও বিএনপি নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সবকিছু বিচারিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হোক। আইন সংশোধনের ফলে এখন ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচারের সুযোগ রয়েছে। দেশবাসী মনে করে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।
আন্দোলনে নিহত দেখিয়ে মামলা করার পর কথিত ব্যক্তি বিদেশে জীবিত থাকার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত তদন্তের সুযোগ না থাকায় তালিকায় কিছু ভুল থাকতে পারে, তদন্তে কেউ জীবিত প্রমাণিত হলে নাম বাদ দেওয়া হবে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দোষ ব্যক্তিদের অভিযোগপত্র দেওয়ার আগেই বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে সরকার আবারও বসবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকের বিস্তার ও চাঁদাবাজি রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং কঠোর মাদকবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে ডগ স্কোয়াড গঠন, অস্ত্র সরবরাহ ও কর্মকর্তাদের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে দণ্ডবিধিতে চাঁদাবাজির শাস্তি ও মামলার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে, যাতে ভুক্তভোগী মামলা না করলেও রাষ্ট্র নিজে থেকে মামলা করতে পারে।
ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করা হচ্ছে, তেমনই পেশাদারত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ ও অনিয়মকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক তিরস্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। চট্টগ্রামে এক ক্রিকেটারকে হয়রানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘ পুলিশপ্রধানদের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের তিন জন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আলোচনা হয়েছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক খুবই ভালো বলে তিনি উল্লেখ করেন।