শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়ে রেখেছিলাম। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজন সাপেক্ষে সেই শপথ বলেই আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একইভাবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারও শপথের সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়ে রাখেন।
স্পিকারের উদ্দেশ্যে পাঠানো পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। অতীতে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক একটি জটিল রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে তিনি মাঝেমধ্যেই ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন।
শারীরিক ও মানসিক এই অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।”
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে স্পিকারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস তালুকদারসহ সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।