সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ: পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে জোরালো আলোচনায় মির্জা ফখরুল

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে জানাতে আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে জানাতে আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে সংসদ সচিবালয়। সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা স্পিকারের কাছে জমা দেবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পরপরই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিএনপির উচ্চপর্যায়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনা এবং রাজনীতিতে সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তাকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ভাবা হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি, দুঃসময়ের নেতৃত্ব এবং সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তাকে তালিকার শীর্ষে রেখেছে।

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদের এক প্রভাবশালী সদস্য বলেন, একটি নামই আছে, আপাতত বিকল্প ভাবা হচ্ছে না। দলের আর বিকল্প নেই।

মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ড. আব্দুল মঈন খান এমপি ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও হাইকম্যান্ডের বিবেচনায় আছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ জানান, এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই এবং প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই সার্বিক বিষয়ে অবগত আছেন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক সাংবিধানিক অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেরদ রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।১২৩(২) অনুচ্ছেদে পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে (অথবা একক প্রার্থী হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যেহেতু নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তাই দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নিয়মিত মেয়াদী সময়সীমা ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত হলেও শারীরিক অসামর্থ্য ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন