সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

সেমিকন্ডাক্টরই হবে দেশের নতুন অর্থনৈতিক গন্তব্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর (অর্ধপরিবাহী) বা চিপ নির্মাণ শিল্পই বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক গন্তব্য হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০৩০ সালের

পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর (অর্ধপরিবাহী) বা চিপ নির্মাণ শিল্পই বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক গন্তব্য হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাত ও প্রবাসীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত দু দিনব্যাপী ‘জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, এআই ও রোবোটিক্স সম্মেলন’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীাবদ্ধতা ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশ কৃষি, তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় ও ডিজিটাল সেবায় সাফল্য দেখিয়েছে। আমাদের মেধাবী তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি গার্মেন্টস শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

এই খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়ন কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত জাতীয় মিশন। এই মিশনে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রবাসে থাকা আন্তর্জাতিকমানের দেশীয় বিশেষজ্ঞদেরও সমন্বিত ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ উদীয়মান খাতকে উৎসাহিত করতে চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামালের ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বাস্তবায়নে প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার একাংশ ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশে একটি বিশেষায়িত ‘বায়োটেক পার্ক’ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ধারণা করা হয়েছিল ২০৩০ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতি সেই লক্ষ্যমাত্রার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এই বিশাল বাজারে প্রবেশ করার অপার সুযোগ আমাদের সামনে রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত আছেন। প্রধানমন্ত্রী এসব দক্ষ জনশক্তিকে দেশের প্রযুক্তি বিপ্লবে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার তাগিদ দেন।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশি-বিদেশি স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্ভাবকদের সাথে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মদ মুস্তফা হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) সভাপতি এম এ জব্বার।

দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রযুক্তি নেতৃত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্ববাজারের চাহিদা ও প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে ১১টি সমান্তরাল অধিবেশন এবং ৭টি কৌশলগত গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন