রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রেমের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে প্রক্টর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর এক শিক্ষার্থীকে বাঁশ, রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে রাকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, একই বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী তার প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় তাকে হুমকি দিচ্ছিলেন। এ বিষয় নিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের দপ্তরে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাড়াও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আনাস, হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসান।
বৈঠক চলাকালে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও এজিএস এস এম সালমান সাব্বির উপস্থিত আনাসকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে দাবি করেন। তার মুঠোফোন পরীক্ষা করে ছবি পাওয়ার অভিযোগ এনে প্রক্টর দপ্তরেই আনাসকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে আনাসসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে গেলে নেতাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে তারা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নিলে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সেখানে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নিয়ে গেলে জিএস আম্মারের অনুসারী রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা ভেতরে ঢুকে তাদের ওপর বাঁশ, রড ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় মারাত্মক আহত মাহমুদুল হাসানকে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ও বাধা দেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে তাকে পুনরায় মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।