শাড়ি পরে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে গানের তালে হাঁটার একটি শর্ট ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে ট্রল ও সমালোচনার মুখে পড়ার পর পাশে থেকে সমর্থন দেওয়ায় পরিবার, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।
সম্প্রতি এক ফেইসবুক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, নেতিবাচক মন্তব্য ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে তিনি প্রথমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও পরিবার ও সর্বস্তরের মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন তাকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের একটি রিল ভিডিও ঘিরে। ভিডিওটিতে তাঁকে শাড়ি পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় গান ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’-এর সাথে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে প্রবাসী তরুণ আসিফ ইকবাল ইরন বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে অপপ্রচার শুরু করেন। সেখানে শিক্ষিকার স্বাভাবিক চলাফেরা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হলে ট্রল ও সাইবার বুলিং শুরু হয়। পরে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই শিক্ষিকা।
তবে ঘটনাটির পর বিউটি রাণীর পাশে এসে দাঁড়ান বহু নারী, সহকর্মী ও প্রগতিশীল নেটিজেনরা। তাঁর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনেকেই একই ধরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে থাকেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, তিনি ঘটনাটিকে কোনো অন্যায় বা অপরাধ হিসেবে দেখছেন না।
কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে ভিডিও বার্তায় বিউটি রাণী পাল বলেন, এক-দুজন মানুষ সব সমাজেই খারাপ থাকে। তবে দেশবাসী আমার প্রতি যে অসীম ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। অনেক সাংবাদিক ভাই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের মন্ত্রী মহোদয়, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অনেক ধন্যবাদ।
তিনি আরও জানান, তাঁর পরিবারের সদস্য ও শিক্ষক বোনেরা প্রথম থেকেই তাঁর পাশে থেকে সাহস দিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর ছোট মেয়ে তাঁকে অনুসরণের কথা বলে মনোবল বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিউটি রাণী পাল ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন। তাঁর সামাজিক মাধ্যমে সবসময়ই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নানা আনন্দদায়ক উপায়ে পাঠদান, বৃক্ষরোপণ ও শারীরিক চর্চা করানোর প্রশংসনীয় নানা উদ্যোগ দেখা যায়।