জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতার তিনটি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (২০০৭-০৮) উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা না করে উল্টো ক্ষমতার লোভ শিখিয়ে ভুল দিকে পরিচালিত বা ‘গাইড’ করেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম ‘সোয়াস অ্যান্টি-করাপশন এভিডেন্স’ এই সভার আয়োজন করে।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, ইউনূস সরকারের ব্যর্থতার প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো, প্রশাসনিক সংস্কারে চরম ব্যর্থ হয়ে পুরোনো আমলাদের ওপরই নির্ভর করা।
তরুণ সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা না দেওয়া এবং নিজেদের গঠিত কমিশনগুলোর সংস্কার প্রস্তাবনাকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা’।
তরুণদের দিকনির্দেশনার বিষয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি একধরনের প্রলোভন ও তীব্র আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ইউনূস সরকার তরুণদের যথাযথ ও দায়িত্বশীল দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব গড়ে তোলার জায়গায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং সমাজে শিক্ষাকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
রাষ্ট্রসংস্কার ও আমলাতন্ত্র নিয়ে ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রসংস্কারের যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছিল, আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সরকারের আপস তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সরকার শুরু থেকেই সাহসী ও মৌলিক পরিবর্তনের পথ না ধরে অত্যন্ত রক্ষণশীল ও নিরাপদ পথ বেছে নিয়েছে। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো না ভেঙে একই ধারার আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই বহাল রয়েছে।
সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, ইউনূস সরকার ‘সংস্কার’ শব্দটির ঢাকঢোল পেটালেও মূলত তারা একটি ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে। তাদের নিজেদের তৈরি করা সংস্কার কমিশনগুলো যেসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছিল, তা তারা খুলে পর্যন্ত দেখেনি; সোজা ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।