সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আপত্তিকর মেসেঞ্জার চ্যাটের অভিযোগে ছাত্রশক্তি নেতাকে অব্যাহতি

আপত্তিকর মেসেঞ্জার চ্যাটের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আপত্তিকর মেসেঞ্জার চ্যাটের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া ওই নেতার নাম সাজিদ আহমেদ মোল্লা। তিনি শাবিপ্রবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও প্রাক-শর্তের পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাজিদ আহমেদ মোল্লাকে সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালাইয়ান্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সাজিদ আহমেদ মোল্লার ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারের কিছু স্পর্শকাতর কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফাঁস হয়। এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রাশিদ আবরার জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি মেসেঞ্জারের চ্যাটটি তার এক আত্মীয় বা খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে হয়েছিল। অভিযোগটি নজরে আসার পরপরই কেন্দ্রে অবহিত করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে সংগঠনের মূল্যবোধ পরিপন্থি বিবেচনা করায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাজিদ আহমেদ মোল্লা। তিনি বলেন, যে চ্যাটটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, সেটি প্রায় এক বছর আগের আমার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে একটি একান্ত ব্যক্তিগত আলাপচারিতা। সমবয়সী হওয়ায় ভাইদের মধ্যে অনেক সময় ঠাট্টা-মজা করে নানা কথাবার্তা হয়। সেটি কোনো সাম্প্রতিক বিষয় নয়, অথচ একটি পুরানো ব্যক্তিগত চ্যাটকে কেন্দ্র করে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

এ ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চললেও শাবিপ্রবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন