সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে মুখোমুখি তসলিমা ও অভিজিৎ দীপক

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রধান

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপক। ভারতের সংবাদমাধ্যম জিনিউজ বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তসলিমা নাসরিন দাবি করেন, বাংলাদেশে স্বৈরাচারবিরোধী যে আন্দোলনকে ছাত্রদের অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখা হয়েছিল, তার নেপথ্যে অন্য এজেন্ডা কাজ করেছে। তার মতে, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ধামাচাপা পড়ে গিয়ে এখন ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, শুরুতে যারা এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তারা শেষ পর্যন্ত প্রতারিত বা বোকা বনে গেছেন; কারণ সাধারণ মানুষ ও প্রগতিশীল সমাজ আন্দোলনের যে পরিণতি প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তার বিপরীত ঘটেছে।

তসলিমার এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরব হন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক। লেখিকার অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, আমরা আলাদা। দীপকের যুক্তি, কোনো দেশের গণআন্দোলনকে একপেশে বা কেবল মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা অনুচিত। আন্দোলনের একাংশের রাজনৈতিক পরিণতি বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর সুবিধা নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, অধিকার আদায়ের মূল লড়াইটি ভুল বা অসৎ ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতে বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনগুলো ভিন্ন নীতি ও সাংবিধানিক মূলবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। অন্য কোনো দেশের নির্দিষ্ট আন্দোলন মৌলবাদের দিকে ধাবিত হওয়ার দায় ঢালাওভাবে সব প্রগতিশীল বা অধিকারকামী মানুষের ওপর চাপানো অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এই বাগযুদ্ধ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একদল তসলিমা নাসরিনের আশঙ্কার সঙ্গে একমত হয়ে দাবি করছেন, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে সহিংসতা ও বৈষম্য বেড়েছে। অন্যদিকে অনেকেই অভিজিৎ দীপকের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অজুহাতে পুরো গণআন্দোলনকে ভুয়া বলা আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবিচার।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন