সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

জুলাই এখনো শেষ হয়নি: ডা. শফিকুর রহমান

‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেলেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা না থাকা প্রসঙ্গে

‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেলেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা না থাকা প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রদর্শনীটি মূলতঃ কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা এবং নির্যাতন তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান কর্তৃত্ববাদী শাসক ছিলেন না বলেই তাঁর ভাষণ এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধাশীল। এ বিষয়ে আমরা নির্মোহ ও বাস্তববাদী থাকার চেষ্টা করেছি। উনি (জিয়াউর রহমান) তো অটোক্রেট শাসক ছিলেন না। যারা কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী ছিল, তাদেরই মূলত আমরা এখানে দেখিয়েছি। আবার যারা মুক্তি দিয়েছেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে যাদের অবদান রয়েছে, সেটাও আমাদের ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে।

সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অধিকার হরণ ও নির্যাতনের পরও ফ্যাসিবাদ বিদায় নেয়নি। অবশেষে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা গর্জে ওঠে। ১৫ জুলাই ঢাবিতে ছাত্রীদের ওপর হামলা, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদসহ অন্যান্যদের হত্যা এবং ১৮ জুলাই থেকে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়।

৩ আগস্টের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনীর জওয়ানরা জনগণের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানালেও শেখ হাসিনা ধমক দিয়ে রক্তপাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা রাজি হননি। পরবর্তীতে ৩ ও ৪ আগস্ট ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটানো হয়।

পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংস্কার কমিশন নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংস্কারের জন্য ৩১টি দল ঐকমত্যে পৌঁছালেও সরকার গঠনের পর বর্তমান সরকারি দল গণভোটের রায় ও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ বা নির্বাচন কমিশন গঠনে দলীয় কর্তৃত্ব মুক্ত রাখার যেসব প্রস্তাব ছিল, তা অমান্য করে পুরোনো বন্দোবস্তের মতো দুর্নীতি ও দলীয়করণ চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সংসদের ভেতরে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে প্রতিকার না পেয়েই তারা রাজপথে নেমেছেন এবং জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি কোনো সরকারের সফলতারচিত্র নয়, বরং যুগে যুগে স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে জনগণের ওপর চলা নিপীড়ন এবং শহীদ পরিবারের প্রত্যাশাকে তুলে ধরা হয়েছে। জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমেই কেবল জুলাইয়ের আন্দোলন সার্থক হবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন