বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকটের জন্ম মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই ও স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) ও অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরে: মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জন্মভূমিতে নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে ফেরত পাঠানো। এটি কেবল কোনো কূটনৈতিক কৌশল নয়, এটিই সামনে এগোনোর একমাত্র পথ। পরিস্থিতি আগের চেয়ে জটিল হলেও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের নীতিতে অটল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের মানবিক উদারতাকে যেন বৈশ্বিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত না বানানো হয়। বাংলাদেশ আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু সংকট তৈরীর মূল কারিগর না হওয়ায় একা এর সমাধান সম্ভব নয়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং ২০২৬ সালের ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নতুন সংকট তৈরি হলেও দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।
সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে ক্যাম্পগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুদের হিসাব ও ২০১৭ সালের পর আসা রোহিঙ্গাদের তথ্য যুক্ত করে একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য যাচাইকরণ (ভেরিফিকেশন) প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেন তিনি।
অতীতে বিএনপি সরকারের আমলের সফল প্রত্যাবাসনের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (১৯৭৮) ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (১৯৯২) নেতৃত্বের মতো বর্তমান তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে এবং চীনা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১০ বছর যেন ২০ বছরে পরিণত না হয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন বক্তব্য রাখেন।