সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ফার্মেসিতে ডেকে ৩য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ৯ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজ ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার (৪২) নামে

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ৯ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজ ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। এ সময় এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রাম বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃত হেলাল উদ্দিন আদর্শ গ্রামের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি সাবেক শিক্ষক এবং বর্তমানে আদর্শ গ্রাম বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন কৌশলে ওই শিশুটিকে তার ফার্মেসিতে ডেকে নেন। পরে দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি এক প্রত্যক্ষদর্শী টের পেয়ে টিনের একটি ভাঙা অংশ দিয়ে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দোকান থেকে পালানোর চেষ্টা চালান। এ সময় জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে গত ৪ আগস্ট একই এলাকায় অপর এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে বিচার বসানো হয়। সেখানে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০টি বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয়রা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন।

তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল জামায়াতের কোনো কর্মী নন। ৫ আগস্টের পর নিজের অপরাধ ও পরিচয় লুকাতে তিনি কৌশল হিসেবে একটি বড় মিছিলে ঢুকে পড়েছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সালাউদ্দিন রাসেদ জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তকে পুলিশ ফাঁড়িতে আনা হয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন