সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শামীম মোল্লা হত্যার দুই বছর: অধরা বিচার, তদন্তে ধীরগতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীম মোল্লা (৩৫) হত্যার দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পুলিশ ব্যুরো অব

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীম মোল্লা (৩৫) হত্যার দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আসামিদের কয়েকজনের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলার অভিযোগে শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন আট শিক্ষার্থী ও অজ্ঞাতপরিচয় ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন, যা পরবর্তীতে পিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে নিহতের ভাই শাহীন আলম আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে আসামি করে পৃথক একটি মামলা করেন। আদালত দুটি মামলা একীভূত করার নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত সেই মামলার নথি পিবিআই-এর কাছে না পৌঁছানোয় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের ভাই। তিনি অভিযোগ করেন, আদালত ও পিবিআই-এর টালবাহানায় মূল নথিই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিহতের মা কোহিনুর বেগম কেঁদে বলেন, আমার ছেলে হত্যার দুই বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো ন্যায়বিচার পাইনি। মৃত্যুর আগে সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি মাহমুদুল হাসান রায়হান, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও আতিকুজ্জামান বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। অন্যদিকে, আহসান লাবিব, হামিদুল্লাহ সালমান, রাজন মিয়া, রাজু আহমেদ ও সোহাগ মিয়া নামের বাকি পাঁচ আসামি এখনো পলাতক। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ায় পলাতক আসামিদের অনেকেই এখনো ক্যাম্পাসে অবাধে চলাফেরা করছেন।

রাজনৈতিক প্রভাবে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে পরিবারের এই অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-এর এসআই আনিসুর রহমান জানান, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পিবিআই ঢাকা জেলার এসপি এম এন মোর্শেদ জানান, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ের করা মামলায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন