এক প্লেট ভাত খাওয়া ও চুরির অপবাদকে কেন্দ্র করে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনডব্লিউইউ) ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে (১৯) ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও ভবন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খানজাহান আলী হল সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি পাঁচতলা আবাসিক মেসে।
নিহত আজমুল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুবউদ্দিনের ছেলে। তিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এক প্লেট ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে আজমুলের সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ছাদে নিয়ে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়, মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং নির্যাতন চলাকালেই আজমুলের ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে ভবনের নিচে ফেলে দেওয়া হয় নাকি তিনি লাফিয়ে পড়েছেন—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক মুমূর্ষু অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তি সনদে চারতলা থেকে পড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও ভর্তির ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃত্যুর পরপরই তাকে হাসপাতালে আনা যুবকেরা সটে পড়েন।
এ ঘটনায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানায় একটি হত্যা মামলা (দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারা) দায়ের করেন।
মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেশ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের মবিন ও রবিন, ম্যাথমেটিক্স ডিসিপ্লিনের সাগর এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওবায়দুর।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে চুরির অভিযোগে আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধরের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি নিজে লাফ দিয়েছেন নাকি তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ঘটনাস্থলের আলামত পর্যালোচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আরও জানায়, নিহত আজমুল ও অভিযুক্তদের মধ্যে আগে থেকে কোনো বিরোধ বা পোশাক ব্যবহার সংক্রান্ত ক্ষোভ ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার বলেন, আজমুল মাত্র ১০ সেপ্টেম্বর আমাদের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। অত্যন্ত মর্মান্তিক এই ঘটনার বিষয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।