রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ জনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আটকদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
জাসদের কর্মসূচি পালনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অনুমতি ছিল কি না—এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনুমতি ছিল কি না তা তার জানা নেই। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কার্যালয়ে ঘরোয়া আলোচনার জন্য অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না।
অভিযানের পটভূমি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছিল কার্যালয়টিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু লোক জড়ো হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৭ জন ছাড়া বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য যাচাই শেষে নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে মিছামিছি হয়রানি করা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জাসদ কার্যালয়ের চাবি দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। পুলিশি হেফাজতে বর্তমানে ২৯ জন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট ২৭৯ জনকে হেফাজতে নিয়েছিল। আটককৃতদের মধ্যে থাকা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকে রোববার ভোররাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে গোপন বৈঠকের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাসদ দাবি করেছে, পূর্বনির্ধারিত এই প্রতিনিধি সভাটি ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করেই আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। জাসদের অভিযোগ, পুলিশি অভিযানের সময় যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে ঢুকে মব সৃষ্টি ও শারীরিক হামলা চালায়। জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন আটককৃত সকল নেতাকর্মীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।