সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধার নাম বদলে রাজাকারের নামে স্টেডিয়াম: ক্ষুব্ধ সচেতন মহল

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পটভূমি রচয়িতা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি ও ঐতিহাসিক ৬ দফার লেখক সিএসপি কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুসের স্মৃতিবিজড়িত ‘যশোর স্টেডিয়াম’-এর নাম পরিবর্তনের

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পটভূমি রচয়িতা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি ও ঐতিহাসিক ৬ দফার লেখক সিএসপি কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুসের স্মৃতিবিজড়িত ‘যশোর স্টেডিয়াম’-এর নাম পরিবর্তনের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বইছে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ।

অভিযোগ উঠেছে, স্বাধীনতা আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা পালনকারী ও স্বাধীনতার সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিত্বের প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে একজন বিতর্কিত ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে।

সিএসপি অফিসার রুহুল কুদ্দুস (১৯২৪–১৯৯১) ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বৃহত্তর যশোরের ডিসট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর আমলেই জমি অধিগ্রহণ এবং গ্যালারি নির্মাণের জটিল সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে যশোর স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া ও শিক্ষাখাতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন সময়ে সর্বস্তরের মানুষের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘রুহুল কুদ্দুস স্টেডিয়াম’।

তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রথম ও একমাত্র মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রথম মুখ্য সচিব। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০১ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়।

১৯৮৭ সালে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক শামস-উল-হুদার প্রয়াণের পর স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘যশোর শাম্স-উল-হুদা স্টেডিয়াম’।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠকদের একটি বড় অংশের দাবি, স্বাধীনতার স্থপতিদের একজন এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের স্মৃতি মুছে দিয়ে বিতর্কিত ও স্বাধীনতার উদ্দেশ্যবিরোধী ভূমিকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে স্টেডিয়ামের পুনঃনামকরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দিয়ে অন্য নামে নামকরণের পেছনে তৎকালীন রাজনীতির অপচেষ্টা ছিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

যশোরের সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সুশীল সমাজ অবিলম্বে স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ও তৎকালীন ডিসি রুহুল কুদ্দুসের ঐতিহাসিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামের মূল নাম ‘রুহুল কুদ্দুস স্টেডিয়াম’ পুনর্বহালের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন