সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ভারতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ‘কমিউনিস্ট-মাওবাদী-ইসলামপন্থী ষড়যন্ত্র’: আরএসএস

ভারতে সাম্প্রতিক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনকে ‘কমিউনিস্ট-মাওবাদী-ইসলামপন্থী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শগত মূল অভিভাবক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)।

ভারতে সাম্প্রতিক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনকে ‘কমিউনিস্ট-মাওবাদী-ইসলামপন্থী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শগত মূল অভিভাবক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সংগঠনটির মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এর সাম্প্রতিক এক সম্পাদকীয়তে এমন দাবি করা হয়েছে।

‘অর্গানাইজার’-এর সম্পাদক প্রফুল্ল কেতকর রচিত এই সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশের নতুন প্রজন্মের জেন-জি তরুণদের এই আন্দোলনে যুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো ‘উত্থিত ভারতের অগ্রগতিকে স্তব্ধ করে দেওয়া’। জাতপাত, ভাষা ও ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলেও এতে দাবি করা হয়।

সম্পাদকীয়তে ষড়যন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা ও আন্দোলনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, আইআইটি বোম্বেতে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে জাতপাতভিত্তিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করে আরএসএস।ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তোলা হয়। দুই হাজার রুপির বেশি বাণিজ্যিক লেনদেনে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালুর প্রস্তাব ঘিরে আন্দোলনের সমালোচনা করে এটিকে ভারতের সফল ডিজিটাল ব্র্যান্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা বলে অভিহিত করা হয়। (যদিও আরএসএসঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ’ও এই এমডিআর চালুর বিরোধিতা করেছে)।

সম্পাদকীয়তে আরও অভিযোগ করা হয়, ভারতকে দুর্বল করতে বিদেশি শক্তিগুলো এসব আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে ও অর্থায়ন করছে এবং ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থে সেই ফাঁদে পা দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএসের মুখপত্রের ২৮ সেপ্টেম্বরের এই নিবন্ধে কমিউনিস্ট ও মাওবাদীদের সাথে ‘ইসলামপন্থী’ যোগসূত্রের অভিযোগ তোলার বিষয়টি আগামী ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বয়ান তৈরির একটি কৌশল হতে পারে। এতে করে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন