মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এবং তাঁর বিখ্যাত চতুর্দশপদী ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সেই ঐতিহাসিক বটগাছটি আর নেই। শনিবার দুপুরে হানা দেওয়া প্রচণ্ড বৈশাখী ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়েছে। কবির স্মৃতিধন্য সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদ পাড়ের মালোপাড়ায় অবস্থিত এই প্রাচীন বৃক্ষটি হারিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষ ও সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার দুপুরে হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন আকাশে তীব্র বেগে বৈশাখী ঝড় আছড়ে পড়ে সাগরদাঁড়ির পাঁচটি গ্রামের ওপর দিয়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে শত শত গাছপালা ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় আঘাত আসে মালোপাড়ার সেই ২৫০ বছরের প্রাচীন বটগাছটির ওপর। কবির ‘বটবৃক্ষ’ কবিতায় যে গাছের বর্ণনা পাওয়া যায় সেটি শিকড়সহ উপড়ে যায়। এছাড়া ঝড়ে মধুপল্লীর ভেতরে থাকা আরও বেশ কিছু মূল্যবান গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়োবৃদ্ধ এই বটগাছটি কপোতাক্ষের তীরে শায়িত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় আলোকচিত্র শিল্পী মুফতি তাহেরুজ্জামান তাছু জানান, গাছটির কয়েকটি ঝুরি এখনও মাটির গভীরে আটকে আছে। বন বিভাগ চাইলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই ঝুরিগুলো থেকে গাছটির চিহ্ন বা অংশবিশেষ রক্ষা করা সম্ভব।
মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও গবেষক কবি খসরু পারভেজ বলেন, এই বটবৃক্ষটি কেবল একটি গাছ নয়। এটি মহাকবির শৈশবের সাক্ষী এবং আমাদের সাহিত্যের অংশ। পর্যটকরা সাগরদাঁড়িতে এসে এই গাছটির মাধ্যমে কবিতাকে অনুভব করতেন। এর অন্তত কিছু অংশ সংরক্ষণ করা জরুরি।
সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান হাসানুজ্জামান জানান, ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মধুপল্লীর ভেতরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজও চলছে।
কেশবপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা সমীরণ বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করছি। গাছটির কোনো অংশ পুনরুজ্জীবিত বা সংরক্ষণ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
কবির স্মৃতিবিজড়িত এই বটবৃক্ষের অংশবিশেষ রক্ষা করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও বন বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাগরদাঁড়িবাসী ও দেশের সংস্কৃতিমনা মানুষ।