সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

মুসলিম ভোটে ধস: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ‘অপ্রত্যাশিত’ ১৮ আসন

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক রাজনৈতিক মহাপ্রলয় ঘটে গেছে। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে অভাবনীয় সাফল্য

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক রাজনৈতিক মহাপ্রলয় ঘটে গেছে। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে নজিরবিহীন ফাটল এবং হিন্দু ভোটের মেরুকরণ এই দ্বিমুখী সমীকরণে ৪৩টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলা এবার শাসক দল তৃণমূলের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে বিজেপি মাত্র ২টি আসন পেয়েছিল, এবার তারা সেখানে ৮টি আসনে জয়ী হয়েছে।

মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে গৌরী শঙ্কর ঘোষ, জঙ্গিপুরে চিত্ত মুখার্জী (তৃণমূলের জাকির হোসেনকে হারিয়েছেন), বেলডাঙ্গায় ভরত কুমার ঝাওয়ার, কান্দিতে গার্গী দাস ঘোষ, বড়ঞায় সুখেন কুমার বাগদী, নবগ্রামে দিলীপ সাহা এবং খড়গ্রামে মিতালী মাল জয়ী হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেস (৯টি আসন), কংগ্রেস (২টি আসন), সিপিএম (১টি আসন) এবং হুমায়ুন কবিরের দল ‘এজেউপি’র (২টি আসন) মধ্যে মুসলিম ভোট পাঁচ ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ায় বিজেপির জয় সহজ হয়েছে।

সংখ্যালঘু প্রধান মালদা ও উত্তর দিনাজপুরেও তৃণমূলের দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।
মানিকচকে গৌর চন্দ্র মণ্ডল তৃণমূলের কবিতা মণ্ডলকে হারিয়েছেন। এছাড়া বৈষ্ণবনগরে রাজু কর্মকার, মালদহে গোপাল চন্দ্র সাহা এবং ইংরেজবাজারে অম্লান ভাদুড়ী জয়ী হয়েছেন। করণদীঘিতে বিরাজ বিশ্বাস, হেমতাবাদে হরিপদ বর্মন, কালিয়াগঞ্জে উৎপল ব্রহ্মচারী এবং রায়গঞ্জে কৌশিক চৌধুরী জয়ী হয়েছেন।

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর উভয় আসনেই জয়ী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, একদিকে হিন্দু ভোটারদের একীভূত হওয়া এবং অন্যদিকে মুসলিম ভোটব্যাংকে বড় ফাটল এই দুইয়ের কারণেই এমন ঐতিহাসিক ফলাফল এসেছে।

বহরমপুর আসনে জয়ী বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র দাবি করেছেন, অনেক মুসলিমও এবার তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই ফলাফল তৃণমূলের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এর প্রধান কারণগুলো হলো, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং এজেউপি-র মধ্যে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক কিছু সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষিতে হিন্দু ভোটারদের এককাট্টা হওয়া। তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ।

এই ৩ জেলায় ৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল ৩৫টিতে, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০টিতে। বিপরীতে বিজেপি ৮টি থেকে বেড়ে ১৮টিতে পৌঁছে এক নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন