সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আ.লীগের দুই কার্যালয়সহ শতাধিক স্থাপনা

যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে

যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সোমবার দ্বিতীয় দফায় আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সূত্র জানায়, শনিবার সকালে শহরের বাবলাতলা এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সেখানে সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে গাবতলা মোড়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর বি-ব্লক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় সরকারি জমিতে নির্মিত দুটি বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। একপর্যায়ে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান ভেঙে ফেলা হয়। পরে পার্কসংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি ভিক্সল কারখানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, একাধিকবার মাইকিং করেও অবৈধ দখলদারদের সরানো সম্ভব হয়নি। নিজ উদ্যোগে সরে যেতে বলা হলেও তারা নানা ধরনের তালবাহানা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে যেতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।

জিয়াউর রহমান বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী মহলকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে অভিযানের সময় অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাদেরকে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে সেখানে বসবাসের সুযোগ পেয়েছিলেন তারা। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক পরিবার মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন