সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ইভিএম নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায়

ভোটের সময় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও প্ররোচনা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ‘বাংলা পক্ষ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ

ভোটের সময় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও প্ররোচনা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ‘বাংলা পক্ষ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (১২ মে) কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, লোকসভা নির্বাচনের বিভিন্ন দফায় ইভিএম-এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাধিক পোস্ট করেছিলেন গর্গ। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো হলো, প্রথম দফার ভোটের দিন (২৩ এপ্রিল) ইভিএম বিভ্রাট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেছিলেন, রাতে পরীক্ষা করার পরও সকালে কেন যন্ত্র বিকল হচ্ছে? গণনার দিন কমিশন ‘গোপন পরিকল্পনা’ করছে বলে পোস্ট করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে ইভিএম কারচুপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান।

উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) এই মর্মে সাইবার ক্রাইম বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লালবাজার জানিয়েছে, গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে এর আগে দু’বার নোটিশ পাঠিয়ে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। ফলে মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাংলা পক্ষ-এর পক্ষ থেকে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের দেওয়া সিজার লিস্টে কোনো অস্ত্র বা কার্তুজের উল্লেখ নেই। মূলত রাজনৈতিক কারণেই তাঁদের সাধারণ সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।

বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা জানান, ইভিএমে কারচুপি নিয়ে গর্গ চট্টোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ রাত লালবাজারের লক-আপে কাটানোর পর বুধবার গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে আদালতে পেশ করা হবে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন