তৌহিদ রিয়াদ
পেসার নাহিদ রানার বাউন্সার সামলাতে না পেরে শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে দিলেন পাকিস্তানের শেষ ব্যাটসম্যান শাহীন আফ্রিদি। সেখানটাই ছিলেন ৭১ নাম্বার জার্সি পরা মাহমুদুল হাসান জয়, ভুল করেননি লুফে নিলেন ক্যাচটা , এরই সাথে সম্পন্ন হলো বাংলাদেশ দলের প্রথম টেস্ট জয়ের আনুষ্ঠানিকতা। চিত্রনাট্যটা বুঝি ক্রিকেট বিধাতা নিজ হাতেই লিখেছিলেন, ইতিহাস বিস্মৃত জাতিকে আব্রো যেনো মনে করিয়ে দিলো গৌরবের ইতিহাসটা।
মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশকে সরাসরিই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সালমান আলী আগা। প্রচ্ছন্ন তাচ্ছিল্যের সুরেই বলেছিলেন বাংলাদেশ যদি ২৬০-২৭০ রানের টার্গেট দেয় তাহলে আমরা হাতে দুই সেশন থাকলেও জয়ের জন্য খেলবো, তবে আমি জানি ওরা এটা করবেনা।”
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সেই চ্যালেঞ্জই নিলেন , টেস্টের পঞ্চম দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই নয় উইকেটে ২৬৭ রানে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন পাকিস্তানের সামনে।
মিরপুর টেস্টের টার্নিং পয়েন্ট মূলত চতুর্থ দিনের সংবাদ সম্মেলনই। কথার লড়াইয়ে নির্ধারণ হয়ে গেছে ম্যাচের ফলাফল। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দলের ওজনটা ঠিক বুঝতে পারেনি পাকিস্তানের টিম ম্যানেজম্যান্ট।

বাংলাদেশ দলের পেসার নাহিদ রানার সর্বনিম্ন গতির ডেলিভারি ছিল ১৩৯.৫ কিমি আর পাকিস্তান আক্রমনের কান্ডারি শাহীন শাহ আফ্রিদির সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৩৬ কিমি । পার্থক্যটা বোঝা যাচ্ছ নিশ্চয়।
এই মানসিকতা আর মাঠে সামর্থ্যের সঠিক প্রয়োগই দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলকেই
ওমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার আগে সালমান আলী আঘার ইতিহাসের দিকে নজর দেয়া দরকার ছিল। পাকিস্তানকে নাস্তাবুদ করার ব্যাপারটি বাংগালির ডিএনএতে প্রোথিত হয়ে যায় ১৯৭১ সালেই।
ফলে বাংলাদেশ অধিনায়ক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেও পালটা জবাব দিতেই ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান। ২৬৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে জয়তো দূরের কথা টেস্ট ম্যাচটাই বাঁচাতে পারেনি সফরকারীরা।
চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য তাড়া করতে ইদানিং ব্যর্থ পাকিস্তান। মিরপুর টেস্টেও যে ওমন কিছু ঘটবে তা অনুমিতই ছিল। স্বাগতিকদের পেসের দাপটই যে দিশহারা হয়ে দুই সেশনেই ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। পাঁচ উইকেট শিকার করে সালমান আলী আগার চ্যালেঞ্জের জবাবটা একাই দিয়ে দেন টাইগারদের গতি তারকা নাহিদ রানা ।
২৬৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার ইমামুল হকের উইকেট হারায় সফরকারীরা। এক উইকেটে পাঁচ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন শুরু করে পাকিস্তান। তবে ৬৬ রানের মধ্যে আজান ওয়াইস এবং শান মাসুদও ফিরে গেলে বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান।
চতুর্থ উইকেটে সালমান আলী আগা ও আব্দুল ফজল ৫১ রানের জুটি গড়ে পরিস্থতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। তাইজুল ও তাসকিন চা বিরতির পর শেষ সেশনে এই দুই জনের উইকেট তুলে নিলে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। এরপরই নাহিদ রানার গতিতে বিধ্বস্ত হয় প্রতিপক্ষ। সাওদ শাকিল, রিজওয়ানের উইকেট তুলে নেন রানা। আর তাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানেই শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস।