সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বন্দর-বিমানঘাঁটিতে মার্কিন প্রবেশাধিকার: চীন-ভারতকে কী উদ্বেগে ফেলবে?

বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও বিমানঘাঁটি মার্কিন সামরিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার সম্ভাব্য আলোচনা ঘিরে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। ইউক্রেনভিত্তিক সামরিক সংবাদমাধ্যম militarnyi.com–এ প্রকাশিত এক

বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও বিমানঘাঁটি মার্কিন সামরিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার সম্ভাব্য আলোচনা ঘিরে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। ইউক্রেনভিত্তিক সামরিক সংবাদমাধ্যম militarnyi.com–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সমঝোতা ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কৌশলে ঢাকার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “Agreement on Reciprocal Trade (ART)” নামে একটি সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও বিমানঘাঁটি মার্কিন সামরিক লজিস্টিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার আলোচনা চলছে। পাশাপাশি “General Security of Military Information Agreement (GSOMIA)” এবং “Acquisition and Cross-Servicing Agreement (ACSA)” নামের দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সম্ভাব্য ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকার বাড়লে সেটি চীন ও ভারতের নিরাপত্তা হিসাবকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।

চীন গত এক দশকে বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, বন্দর ও সামরিক খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী বন্দরকে তারা বঙ্গোপসাগরে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রবেশপথ হিসেবে দেখে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমার হয়ে চীনের “China-Myanmar Economic Corridor (CMEC)” প্রকল্প এবং মালাক্কা প্রণালীর বিকল্প জ্বালানি ও বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম বা লজিস্টিক উপস্থিতি বাড়লে বেইজিং সেটিকে আঞ্চলিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের নিরাপত্তা পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগর, উত্তর-পূর্ব ভারতের করিডোর এবং আন্দামান অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গে বাংলাদেশ সরাসরি যুক্ত।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পৃক্ততা বাড়লে দিল্লিও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। যদিও ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার, তবু দক্ষিণ এশিয়ায় অতিরিক্ত বহিরাগত সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দেশটির ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার ও সম্ভাব্য বিনিয়োগ অংশীদার হলেও, চীন দেশটির অন্যতম বড় অবকাঠামো সহযোগী ও ঋণদাতা। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর ভৌগোলিক ও নিরাপত্তাগত আন্তঃনির্ভরতা রয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ যদি দৃশ্যমানভাবে কোনো একক শক্তির নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ায় বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার চাপ আরও বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন