ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামির মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে সশরীরে হাজির হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু তালিব। শুধু তাই নয়, ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে জামায়াতের এই সংসদ সদস্যকে নিজ হাতে খাবার বেড়ে খাইয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও মামলার আসামি মহিদুল ইসলাম মন্টু।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুর নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর বিয়ের আয়োজন ছিল বৃহস্পতিবার। রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে পারিবারিক এই মেলবন্ধনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব।
এছাড়াও এই রাজকীয় বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এক টেবিলে অংশ নেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তবিবুর রহমান মিনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওদু ও আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসেরসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ সারির একাধিক নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানের আয়োজক মহিদুল ইসলাম মন্টু মূলত ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত শিবিরকর্মী শামীম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজের সামনে থেকে সাদা পোশাকধারী চার ব্যক্তি শামীমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ নিখোঁজের পর ওই বছরের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালি গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে শামীমের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘদিন পর, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিহত শামীমের বাবা রুহুল আমিন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
খোদ দলের এক কর্মীকে হত্যার আসামির বাড়িতে জামায়াত এমপির এমন পাত পেড়ে খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে লোকটা আমাদের এক ভাইয়ের রক্তে হাত রাঙিয়েছে, তার মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে জামায়াতের এমপি খাচ্ছেন! এর চেয়ে লজ্জার আর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আর কিছু হতে পারে না।”
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব গণমাধ্যমকে বলেন, “ওই ইউনিয়নেই আমার পৈতৃক গ্রামের বাড়ি। গ্রামীণ সমাজ ও সামাজিকতার দায়বদ্ধতা থেকে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তবে এটুকু বলতে পারি, ওই হত্যা মামলায় মন্টুর নাম আমি নিজেই অন্তর্ভুক্ত করিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে সঠিক বিচার পায়, সংসদ সদস্য হিসেবে সেই ব্যবস্থা আমি অবশ্যই করব।”