সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল-এ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল-এ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে থাকা এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিলে গ্যাস লিকেজ হয়। এরপর ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিলেন। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে দুই দিনের মধ্যে।

হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি জেনেছেন। হাসপাতালে গিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এক শিশুর দাদি অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলেও তাদের অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, শিশুটিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে জানতে পারেন, সে আর বেঁচে নেই।

আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত ছিলেন না। শিশুদের কান্না, বমি ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, প্রথমে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে আবার ওয়ার্ডে ফেরত আনা হয়। সকাল ৬টার দিকে সব শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে পুনরায় এনআইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ভেন্টিলেশন দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এক নবজাতকের মা এসি বন্ধ রাখতে বলেছিলেন। পরে আবার এসি চালু করার কিছুক্ষণ পর শিশুদের অসুস্থতা শুরু হয়।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন টিম কাজ করছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন