সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ছাত্রলীগের মিছিলে বাঁধা দিতে গিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে রাজপথে দেখে সরে গেলো পুলিশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের ‘সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের ‘সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আজ শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজ শেষে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দিলেও বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিছু হটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পরপরই সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যৌথ উদ্যোগে বাঁধের হাট বাজারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শুরু হওয়া মাত্রই সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক মিছিল নিয়ে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, “আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় এবং সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না এবং রাজপথ ছাড়বো না।”

কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরও দাবি করেন, “দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। পুলিশ প্রথমে আমাদেরকে বাধা দিলে আমাদের প্রায় দুই হাজারের মতো মানুষ ভয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করি এবং সমাবেশ করি।”

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্যে মিছিল এবং সেখানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আগে থেকেই বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশের একাধিক দল সেখানে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না। আমরা মিছিলে শুরুতে তাদের বাধা দিলেও পরে তাদের উপস্থিতি ও লোকবল আমাদের চেয়ে অনেক বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ে।”

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের এত বড় অনাকাঙ্ক্ষিত জমায়েত এবং পুলিশের পিছু হটার ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন