যশোর শহরের আরবপুর এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্পত্তির উত্তরাধিকারী সায়াদ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে সায়াদ হোসেন দাবি করেন, তাঁর পিতা প্রয়াত আব্দুস সালাম সরদার (হবি সরদার) জীবদ্দশায় সংশ্লিষ্ট কোনো সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করেননি। পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁরা যশোর কোতোয়ালী থানার ৯৩ নম্বর পুরাতন কসবা মৌজার আরএস ৬০৫৮ দাগের ১৬৪ দশমিক ৫০ শতক জমির মালিক হন। ওই জমিতে বহুতল ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মৎস্য ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, বাবলু তালুকদার তাদের জমির একজন ভাড়াটিয়া হলেও পরবর্তীতে জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে বর্তমানে একটি কথিত সন্দেহজনক দলিল বাতিলের দাবিতে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে পৃথক দুটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া সম্পত্তি রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হলে সংশ্লিষ্ট জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং আপিল আদালতেও রায় তাঁদের পক্ষে আসে বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পিতার মৃত্যুর পর বাবলু তালুকদার, আসাদুজ্জামান, আনিসুর রহমান, ইয়াসিন ও একেএম আতিকুজ্জামান ছানিসহ একটি প্রভাবশালী চক্র জমি দখলের অপচেষ্টা শুরু করে। তাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৪ ও ২৬ মে পৈতৃক জমিতে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে বাবলু তালুকদার ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয় এবং ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এ সময় কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়। সায়াদ হোসেন বলেন, এসআই সাইফুল ইসলামের সহায়তায় তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাঁকে, তাঁর ভাইকে এবং শ্বশুরকে থানায় ডেকে নিয়ে ওই মামলায় আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাঁরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এসআই সাইফুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভূমি বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্তে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসিমা লাবিবা, সাহিদা সালাম, বিল্লাল হোসেন, জিয়াউল হক, জহুরা হক, শহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, শামসুর রহমান ও আসাদুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।