সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত, আশ্বাস গভর্নরের

দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এসব ব্যাংকের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যাংকেও কিছু

দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এসব ব্যাংকের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ব্যাংকেও কিছু সমস্যা রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শুক্রবার বিকেলে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর বলেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক আগেই সমস্যায় ছিল। এগুলোর জন্য গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আগের সরকার একটি বিশেষ স্কিম চালু করে গিয়েছিল। সেই স্কিম অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে ব্যাংক খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর বিষয়ে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব।

তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান

ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেন গভর্নর। তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে কোনো ব্যাংকে এমন সংকট নেই, যাতে আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন না। জনগণ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে অর্থ রাখতে পারেন।

ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপির অভিযোগও নাকচ করেন মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, তিনি যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটি কখনও উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করেনি এবং কোনো সময় ঋণখেলাপিও হয়নি।

তার ভাষায়, প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছিল। শুরুতে স্বল্প সুদের সুবিধা থাকলেও পরে সুদের হার বৃদ্ধি পায়। কোভিডসহ বিভিন্ন কারণে প্রত্যাশিত মুনাফা পেতে সময় লেগেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কখনও এক টাকাও ঋণখেলাপি হয়নি; বরং ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে।

তিনি বলেন, একটি কথা বারবার বলতে বলতে অনেক সময় সেটিকে সত্য বলে মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো বকেয়া ঋণ ছিল না।

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও জানান গভর্নর।

তিনি বলেন, “বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের কারণে ডিজিটাল লেনদেনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। আগামী মাস থেকে একটি একক কিউআর ব্যবস্থার আওতায় সবাই সবার সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে।”

ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ এ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। আমরাও আশা করছি, খুব দ্রুত ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন বিস্তৃত হবে। এর ফলে নগদ অর্থের ব্যবহারও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচার রোধ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবিষ্যতে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান গভর্নর।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন