সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

তিন বছরের বেশি সময় কোমায় থাকার পর থাই রাজকুমারী বজ্রকিতিয়ভার মৃত্যু

তিন বছরেরও বেশি সময় কোমায় থাকার পর থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজ্রকিতিয়ভা নরেন্দ্র দেব্যবতী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য

তিন বছরেরও বেশি সময় কোমায় থাকার পর থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজ্রকিতিয়ভা নরেন্দ্র দেব্যবতী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে থাই রাজপ্রাসাদ।

রাজপ্রাসাদের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিজের পোষা কুকুরদের ব্যায়াম করানোর সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান রাজকুমারী বজ্রকিতিয়ভা। পরে চিকিৎসকরা জানান, হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে তীব্র অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কোমায় চলে যান।

বিবৃতিতে বলা হয়, চিকিৎসক দল দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা প্রদান করলেও তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে চুলালংকর্ন হাসপাতাল-এ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাজকুমারী বজ্রকিতিয়ভা, যিনি ‘প্রিন্সেস পা’ নামে অধিক পরিচিত ছিলেন, ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহা ভজিরালঙ্কম-এর সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। তার মা ছিলেন রাজার প্রথম স্ত্রী ও চাচাতো বোন প্রিন্সেস সোমসাওয়ালি।

তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে থাই রাজপরিবার তাদের অন্যতম পরিচিত ও কৃতী সদস্যকে হারাল। রাজা ভজিরালঙ্কমের সন্তানদের মধ্যে তিনি ছিলেন এমন একজন, যিনি আনুষ্ঠানিক রাজকীয় উপাধিধারী এবং দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সিংহাসনের উত্তরাধিকার হওয়ার যোগ্য ছিলেন।

জনসেবা, নারী বন্দিদের কল্যাণ এবং কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি থাইল্যান্ডে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়া-এ থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। একই সময়ে স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়া-তেও তার কূটনৈতিক দায়িত্ব ছিল।

নারী বন্দিদের অধিকার রক্ষায়, বিশেষ করে গর্ভবতী বন্দিদের সহায়তায় তিনি একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়।

২০১৭ সালে জাতিসংঘের অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কমিশন তাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইনের শাসনবিষয়ক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এছাড়া ২০২১ সালে তিনি থাই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে জেনারেল পদমর্যাদা লাভ করে রয়্যাল সিকিউরিটি কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, রাজকুমারী বজ্রকিতিয়ভার জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন