সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পিটিয়ে থানায় হেনস্তা, এসআইসহ ৩ পুলিশ ক্লোজড, মামলা দায়ের

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন ও থানায় হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ন্যাক্কারজনক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন ও থানায় হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৩ জুন) নাঈমের ভাই কামরুল হাসান সাব্বির বাদী হয়ে খুলশী থানায় এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চান্দগাঁওয়ের নিজের বাসায় ফিরছিলেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান। পতেঙ্গা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠে লালখান বাজার এলাকায় নেমে আরেকটি ফ্লাইওভারে ওঠার কথা ছিল তাঁর। তবে দুই ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাঁর সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটানো ও চরম হেনস্তা করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাঈমের বাবা, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও আমার ছেলেকে ন্যাক্কারজনকভাবে মারধর করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। খবর পেয়ে আমি থানায় গেলে ডিউটি অফিসার প্রথমে আমাকে ঢুকতেই দেয়নি। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ঢুকতে পারলেও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অত্যন্ত অপমানজনক কথা বলেন। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে বিসিবি চেয়ারম্যান তামিম ইকবাল এবং পরিচালক ইসরাফিল খসরু সাহেব ওসির ফোনে কল করার পর পুলিশের সুর নরম হয়। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নাঈমকে ছাড়ে।

তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত দোষী পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের কাছে একটি চোরাচালান-সংক্রান্ত গোপন তথ্য ছিল, যার ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে ক্রিকেটার নাঈমকে আটকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশের কিছু অসঙ্গতি ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তদন্তে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় দলের একজন নিয়মিত ক্রিকেটারের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বোর্ড বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একই সঙ্গে ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় বিসিবি সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন