বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর সহপাঠী, সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও সহকর্মীরা এই দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, ডা. ধীপ্রা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে স্বামী ডা. রহমত রশিদ সিয়াম, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। তারা আরও দাবি করেন, মৃত্যুর আগে টানা তিন দিন ডা. ধীপ্রাকে একটি কক্ষের ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাঁকে পর্যাপ্ত খাবার থেকেও বঞ্চিত করা হয়।
পরিবার ও সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে যে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এর তত্ত্ব প্রচার করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে।
তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে ডা. ধীপ্রা চরম সংকটাপন্ন মানসিক অবস্থায় পৌঁছেছিলেন এবং এরই একপর্যায়ে বিভিন্ন ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করতে বাধ্য হন।
মানববন্ধনে ডা. ধীপ্রার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মৃত্যুর পর তাঁর আপন স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের অনেক সদস্যকেই শেষবারের মতো মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কোনো ধরনের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই অত্যন্ত রহস্যজনক দ্রুততার সঙ্গে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এই পরিস্থিতিতে ডা. ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়, ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ময়নাতদন্ত ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর পরিবার, সহপাঠী ও সহকর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কেবল একটি গ্রহণযোগ্য, প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে ঘিরে উদ্ভূত সব প্রশ্নের সুষ্ঠু উত্তর দিতে পারে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে পারে।