বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর থেকেই ম্যাচটি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ছয় ও সাত নম্বর দলের লড়াই—স্বাভাবিকভাবেই চলতি আসরে এখন পর্যন্ত এটিই ছিল সবচেয়ে বড় মহারণ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও মরক্কো। তবে মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি; ১-১ গোলের হতাশার ড্র দিয়ে হেক্সা মিশন শুরু করতে হলো কার্লো আনচেলত্তির দলকে।
শুরুতে মরক্কোর ধাক্কা, ভিনির জাদুতে সমতা
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলের চেয়ে অনেক বেশি গোছালো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের নেতৃত্বে মাঝমাঠ থেকে বারবার ব্রাজিলের রক্ষণভাগে কাঁপন ধরাচ্ছিল মরোক্কানরা।
ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি অবশ্য ব্রাজিলই পেয়েছিল। ১৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ এক ক্রসে ইগোর থিয়াগো ঠিকঠাক মাথা ছোঁয়াতে পারলে এগিয়ে যেতে পারত সেলেসাওরা। কিন্তু শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া এই ফরোয়ার্ড সুযোগটি হাতছাড়া করেন।
এর চার মিনিট পরেই ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেয় মরক্কো। ১৭ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের অসাধারণ এক থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন ইসমায়েল সাইবারি। বিপদ আঁচ করতে পেরে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার এগিয়ে এলেও ঠান্ডা মাথায় তাকে লব করে বল জালে পাঠান সাইবারি (১-০)।
পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ৩২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রাফিনিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের এক বুলেট গতির চোখ ধাঁধানো শটে মরক্কোর জাল কাঁপান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু পুরো শরীর মেলেও সেই টপ কর্নার শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচটি সমতাসূচক গোল করে স্মরণীয় করে রাখলেন ভিনি।
নেইমারহীন ব্রাজিলের বিবর্ণ দ্বিতীয়ার্ধ
চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় এই ম্যাচেও নেইমারকে থাকতে হয়েছে দর্শকের ভূমিকায়। আর মাঠে নেইমারের অনুপস্থিতি স্পষ্ট টের পাওয়া গেছে ব্রাজিলের খেলায়। ভিনির গোল আর দু-একটি বিচ্ছিন্ন আক্রমণ ছাড়া পুরো ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানদের চেনা ছন্দে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাঝমাঠে বারবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তারা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে হলুদ কার্ড দেখা কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়ানিজকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মাঠে নামানো হয় ফাবিনিও এবং দানিলোকে। তবে এতেও খেলার ধার খুব একটা বাড়েনি। উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থকই আনচেলত্তির দলের এমন রক্ষণাত্মক ও ছন্নছাড়া ফুটবল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ত্রাতা আলিসন বেকার
ম্যাচের শেষ দিকে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিতে পারত মরক্কো। গোলের জন্য ক্ষুধার্ত মরোক্কানরা শেষের মিনিটে বেশ কয়েকটি জোরালো আক্রমণ চালায়। তবে ব্রাজিলের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন গোলরক্ষক আলিসন বেকার। বিশেষ করে ম্যাচের যোগ করা সময়ে বাঁ দিকে চমৎকারভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্লোজ রেঞ্জের একটি নিশ্চিত গোল রুখে দেন তিনি। আলিসনের এই দুর্দান্ত সেভটির কারণেই মূলত হার এড়াতে পেরেছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়লেও, টুর্নামেন্টের শুরুতেই মরক্কোর কাছ থেকে পাওয়া এই ধাক্কা ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা।
- ম্যাচের ফলাফল: ব্রাজিল ১ – ১ মরক্কো
- গোলদাতা: মরক্কো – ইসমায়েল সাইবারি (১৭ মি.), ব্রাজিল – ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (৩২ মি.)
- ভেন্যু: মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ জার্সি।
- বিশেষত্ব: ব্রাজিলের জার্সিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ৫০তম ম্যাচ।