যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ‘শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং সেদিন থেকেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নিজের পোস্টে তিনি বলেন, “এই দুর্দান্ত চুক্তি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে। অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। এই অঞ্চলের নেতারা প্রথমবারের মতো এমন একজন প্রেসিডেন্টকে পেয়েছেন, যিনি প্রকৃত শান্তি অর্জনে সহায়তা করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের পর মাইন অপসারণের উদ্দেশ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে এই অঞ্চল এবং পুরো বিশ্বের জন্য আবারও উভয় প্রান্ত দিয়ে তেল প্রবাহিত হবে।”
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। তবে ট্রাম্প মাইন অপসারণের কথা বললেও, ওই প্রণালিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো মাইন স্থাপন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই চুক্তির আলোচনা বা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে জানা গেছে। চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ইতোমধ্যে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নির্ধারিত যুদ্ধকালীন লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই পূরণ করতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।