সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি, আড়ালে বেনজীরের রেড নোটিশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ আটকের পর আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল’-এর রেড নোটিশ ও ওয়ান্টেড তালিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ আটকের পর আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল’-এর রেড নোটিশ ও ওয়ান্টেড তালিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বিশ্বজুড়ে মোস্ট ওয়ান্টেড বা মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি হিসেবে ৬ হাজার ৪৪২ জনের নাম রয়েছে, যার মধ্যে ৫৯ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত প্রকৃত আসামির সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কৌশলগত কারণে সব আসামির নাম ওয়েবসাইটের প্রকাশ্য ওয়ান্টেড তালিকায় প্রকাশ করা হয় না। সাবেক আইজিপি বেনজীরের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে; তাঁর নামে রেড নোটিশ জারি থাকলেও তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি, যাতে আসামি বিষয়টি টের পেয়ে গা-ঢাকা দিতে না পারে। তবে এই নোটিশ ইন্টারপোলের ১৯৬টি সদস্য দেশের নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে সক্রিয় রয়েছে।

ইন্টারপোলের তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বজুড়ে অপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বেলজিয়ামের মতো দেশগুলো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে খুঁজছে।

সিঙ্গাপুর: চাঁদপুর সদরের রাজু ঢালীকে খুনের মামলায় খুঁজছে।


ভারত: মুদ্রা জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস ও তরিকুল ইসলাম; নোয়াখালীর সবুজ; গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ; নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিক উলকে খুঁজছে।


যুক্তরাষ্ট্র: যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম এবং অস্ত্র মামলায় ফজলুল আমীন জাভেদকে খুঁজছে।


দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসওয়াতানি: খুনের অভিযোগে নোয়াখালীর মিজান মিয়া (দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং ঢাকার মো. মিলন ও লিটন ব্যাপারীকে (ইসওয়াতানি) খুঁজছে।


অন্যান্য দেশ: বেলজিয়াম খুঁজছে লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ আলমকে (খুন); মালয়েশিয়া খুঁজছে নাটোরের সিরাজ মোস্তফা (চোরাচালান) ও ফেনীর আলা উদ্দিনকে (খুন) এবং মালদ্বীপ খুঁজছে হানিফকে (তছরুপ)।

বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধ, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, মানবপাচার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশ সরকারও ইন্টারপোলের মাধ্যমে দীর্ঘ এক তালিকা প্রকাশ করেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত ও অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরী, ঢাকার নুর চৌধুরী, শরীফুল হক ডালিম।

এ ছাড়া আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ, কালা জাহাঙ্গীর ফেরদৌস, প্রকাশ কুমার, জাফর আহমেদ। অন্যান্য হত্যা মামলায় বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন খান, ফরিদপুরের নাইম খান ইকরাম, গাজীপুরের নুরুল দীপু ও আহাম্মেদ মজনু, খুলনার শরীফুল হোসাইন, বরিশালের গোলাম ফারুক অভি, নরসিংদীর মোসলেম উদ্দিন খান এবং গাইবান্ধার চন্দন কুমার রায়।

মানবপাচার: কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল এবং মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলাম।


জালিয়াতি ও পর্নোগ্রাফি: জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমান (জালিয়াতি) এবং টাঙ্গাইলের ওয়াসিম (পর্নোগ্রাফি)।


অস্ত্র ও নির্যাতন: গিয়াস উদ্দিন (অস্ত্র) এবং চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ (নির্যাতন)।
যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য: জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মো. হাছান আলী, আবুল কালাম আজাদ ও সৈয়দ মো. হোসেন।

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৯৬ সদস্যের এই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় করতে কাজ করে যাচ্ছে। বেনজীর আহমেদের আটকের পর এখন তালিকায় থাকা অন্যান্য হাই-প্রোফাইল পলাতকদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নতুন আশার আলো দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন