সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ডা. ধীপ্রার মৃত্যু: স্বামী, শ্বশুর ও সিমু নাসেরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর ধানমন্ডিতে তরুণ চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যা ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর আলামত গোপনের অভিযোগে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

রাজধানীর ধানমন্ডিতে তরুণ চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যা ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর আলামত গোপনের অভিযোগে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানসিক-শারীরিক নির্যাতন, দীর্ঘ সময় তালাবদ্ধ রেখে অনাহারে রাখা এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে আলামত লোপাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার আবেদন করেন নিহতের স্বজন মো. মশিউর রহমান শাহ। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ১৯৩ ও ১৯৭, ২০১ , ১০৯ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার আসামিরা হলেন,নিহতের স্বামী ডা. রহমত রশীদ,শ্বশুর ও বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ,শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা ও জনপ্রিয় পোর্টাল ‘ইয়ার্কি ডট কম’-এর সম্পাদক সিমু নাসের।

মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, সহপাঠী ডা. রহমত রশীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা। তাদের সংসারে দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। এর ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। সন্তান জন্মদানের পর পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন (সন্তান প্রসব-পরবর্তী মানসিক রোগ) ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন তিনি।

চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় চরম অবহেলা করেন এবং তাঁর এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিভিন্নভাবে বাধা দেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে ‘Female Doctors in Bangladesh’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে নিজের ওপর চলা পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে ডা. ধীপ্রা একটি পোস্টও করেছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২ জুন থেকে টানা তিন দিন ডা. ধীপ্রাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে কোনো খাবার দেওয়া হয়নি এবং তাঁর দুই বছর বয়সী সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। ৪ জুন খবর পেয়ে ধীপ্রার মা ধানমন্ডির ‘বসতি গ্রিন আবাসন’-এর ওই ফ্ল্যাটে যান। সেখানে মেয়েকে তালাবদ্ধ দেখে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

কক্ষ থেকে বের হয়েই ডা. ধীপ্রা তাঁর মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব’। এর পরপরই তিনি অচেতন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

আরজিতে বাদী আরও অভিযোগ করেন, ডা. ধীপ্রা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ধানমন্ডির নিকটবর্তী কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দীর্ঘ বিলম্বের পর তাঁকে বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শ্বশুর ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদের প্রভাব খাটিয়ে কোনো ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) ছাড়াই একটি ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয় এবং তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়ায় এখন ডা. ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন নিহতের পরিবার ও সহকর্মীরা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন