সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

‘বাবা বেঁচে আছেন, সংসদে ভুল বলেছি’ সমালোচনার মুখে জামায়াত এমপি

নিজেকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার’ সন্তান দাবি করে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে এখন ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখের ভুল বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। বুধবার

নিজেকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার’ সন্তান দাবি করে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে এখন ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখের ভুল বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। বুধবার দুপুরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, আবেগ বা অসাবধানতাবশত তিনি এই ভুল তথ্য দিয়েছেন এবং তার বাবা এখনো জীবিত ও সুস্থ আছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সংসদে দেওয়া বক্তব্যে নীলফামারী-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য দাবি করেছিলেন, তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন এবং তাদের পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া মুনতাকিমের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। বর্তমানে তার বয়স ৪৫ বছরের কিছু বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা প্রশ্ন তোলেন— ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাবা শহীদ হলে, ১৯৮১ সালে এই সংসদ সদস্যের জন্ম কীভাবে সম্ভব?

বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে আজ মুখ খোলেন এমপি মুনতাকিম।

বাবার ‘শহীদ’ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, কথা বলতে গিয়ে ‘স্লিপ অব টাং’ হয়ে গেছে। আমার বাবা এখনো বেঁচে আছেন। আমার আব্বা আলহামদুলিল্লাহ, সুস্থ আছেন। হলফনামায় দেওয়া তথ্যই সঠিক, আমি ১৯৮১ সালেই জন্মগ্রহণ করেছি।

পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা ও দাদা শহীদ হওয়ার দাবির বিষয়েও তিনি সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, “৪৭ জন একুরেট না। সংখ্যাটা সঠিক হয়নি। পরে আমরা পারিবারিকভাবে খবর নিলাম, সংখ্যাটা মেলেনি।” তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা কত, তা তিনি জানাতে পারেননি। অন্যদিকে, দাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি সুর বদলে বলেন, “যুদ্ধ করেছেন কিন্তু শহীদ হননি।”

বক্তব্যের এই ভুলের জন্য স্পিকার বরাবর একটি লিখিত সংশোধনী জমা দিচ্ছেন বলেও জানান নীলফামারীর এই সংসদ সদস্য।

সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে জামায়াত নেতাদের নিজেদের পরিবার বা নিজেদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত এপ্রিল মাসে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে অন্য এক শীর্ষ নেতাও নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

আব্দুল মুনতাকিম (এমপি, নীলফামারী-৪) সংসদে দাবি করেন বাবা-দাদা শহীদ এবং পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। পরে স্বীকার করেন বাবা জীবিত এবং তথ্যে ভুল ছিল।

ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির) গত এপ্রিলে সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বর্ডারের কাছে তাদের বাড়িতে শরণার্থীরা আশ্রয় নিত এবং তারা পাকিস্তানি সেনাদের গতিবিধির ওপর পাহারা দিয়ে মানুষকে বর্ডার পার হতে সাহায্য করতেন।

সংসদে দাঁড়িয়ে জামায়াত নেতাদের এমন একের পর এক স্ববিরোধী ও বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা থামছেই না।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন