ইরান যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতা প্রয়োগের সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করেছে এমন দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এখনও তিনি মনে করেন তার ক্ষমতার ‘কোনো সীমাবদ্ধতা নেই’।
মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতা তাকে ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে নতুন কোনো শিক্ষা দেয়নি।
ইরান যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সংঘাতের অবসান ঘটে একটি সীমিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ যাতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট বা মন্দার দিকে না গড়ায়, সে কারণেই তিনি সমঝোতার পথে এগিয়েছিলেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, যুদ্ধ থেকে তিনি নিজের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে কী শিখেছেন। জবাবে তিনি বলেন, এখানে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আমি এখনও তেমন কোনো শিক্ষা পাইনি। আমি জানি সীমাবদ্ধতা থাকে, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেছে। তার ভাষায়, আমরা তাদের সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত করেছি। এমনকি সমঝোতা স্মারকটিও এক ধরনের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ হতে পারে।
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তার নির্দেশে এমন কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল যে কোনো জাহাজই তা অতিক্রম করতে পারেনি।
তবে তিনি স্বীকার করেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি চাইলে আরও দুই বা তিন সপ্তাহ বোমাবর্ষণ চালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তাতে কী হতো? হরমুজ প্রণালি খোলা থাকত না।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো এবং কয়েক মাস ধরে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারত। এমন পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণও হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
সূত্র: অ্যাক্সিওস