সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

এডিসি সাকলায়েন কাণ্ডে আবারও আলোচনায় পরীমণির সেই ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ মন্তব্য

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর সাকলায়েনকে নিয়ে পরীমণির একটি পুরোনো বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৫ জুন দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পরীমণি সাকলায়েনকে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দাবি করেছিলেন, সাকলায়েন মূলত কোনো এক ‘ব্যক্তিগত আক্রোশের’ শিকার হয়েছেন।

সাকলায়েনের চাকরি হারানোর প্রসঙ্গে তখন জানতে চাওয়া হলে পরীমণি বলেছিলেন, আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি; ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।

দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে চলা নানা মুখরোচক আলোচনা ও অভিযোগ প্রসঙ্গে এই চিত্রনায়িকা বলেন, সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্ত আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।

নিজেদের সম্পর্কের গভীরতা বা সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরীমণি আক্ষেপ করে বলেন, যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগে এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না এটার আর কোনো দরকার আছে।

সাকলায়েনকে ঘিরে নেওয়া এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপকে শুরু থেকেই ভিন্ন চোখে দেখছেন পরীমণি। তার স্পষ্ট মন্তব্য ছিল, আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারও বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। তবে কার বা কাদের সেই ব্যক্তিগত আক্রোশ—এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে পরীমণি বলেছিলেন, আমি জানি না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। কিন্তু এমনটা নয় যে প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে (চাকরিচ্যুতি) হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না। তবে সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে।

বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত মো. গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে অবশ্য ভিন্ন কথা বলা হয়েছে।

সেখানে উল্লেখ করা হয়, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগটি বিভাগীয় তদন্তে সম্পূর্ণভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো।

প্রশাসনিক এই শাস্তির পর পরীমণির সেই পুরোনো মন্তব্য এবং প্রশাসনের তদন্তের ফলাফল—দুইয়ে মিলে নেট দুনিয়ায় এখন চলছে তুমুল বিশ্লেষণ।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন