বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং ‘মাফিয়া পার্টি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, এই দলটির সমস্ত কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে এবং আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা কার্যক্রমের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না; এটি একটি মাফিয়া পার্টি। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো ধরনের কার্যক্রম বা বিশৃঙ্খলা সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাবেক এই বিতর্কিত পুলিশ প্রধানকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতিমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দেশটির সরকার দ্রুতই সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে এবং খুব দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকা বহু বছর ধরেই অপরাধীদের একটি অভয়ারণ্য বা প্রধান আস্তানায় পরিণত হয়ে রয়েছে। বর্তমান সরকার এই এলাকার অপরাধ চক্রকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, “নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা ইতিমধ্যে সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। মোহাম্মদপুরকেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে এবং সেখানকার অপরাধীদের শক্ত হাতে নির্মূল করা হবে।”
পুলিশের সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যরা দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যে প্রশংসনীয় কাজ করছেন, তারই স্বীকৃতিস্বরূপ আজ তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারের এই কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।