ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫০০ পাকিস্তানি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য নেশন’।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, হঠাৎ বহিষ্কারের শিকার হওয়া এই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের জন্য পাকিস্তান সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত চলাকালীন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বহিষ্কৃত এই ৩ হাজার ৫০০ পাকিস্তানির বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে জাতীয় পরিষদে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) সামিনা খালিদ ঘুরকির এক প্রশ্নের জবাবে ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানান, স্পেন, পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো পাকিস্তানি নাগরিক নেই।
তিনি আরও জানান, ইউরোপের এসব দেশে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাসগুলোতে বন্দি নাগরিকদের সার্বিক সহায়তার জন্য বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলগুলো নিয়মিত সংশ্লিষ্ট দেশের কারাগার পরিদর্শন করে, বন্দিদের আইনি ও মানসিক সমস্যার সমাধান করে এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল বন্দিদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকে।
এছাড়া, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পাদিত বন্দি স্থানান্তর চুক্তির আওতায় গত ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে মোট ৯ জন পাকিস্তানি বন্দিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জাতীয় সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।