- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গাফিলতি মানলেও তদন্তে আগ্রহী নন বিশেষ সহকারী
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় সাতশ মানুষের মৃত্যুর খবরের মাঝেই সরকারের টিকাদান কর্মসূচিকে ‘উদযাপনযোগ্য সাফল্য’ হিসেবে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
‘‘বিগত সরকারের(অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) গাফিলতি তো আছেই। তাদের গাফিলতির জন্যই তো ২০২৪-২৫-এর যে টিকার রাউন্ড পুরোপুরি মিস করা হয়েছে। এটার জন্য কোনো তদন্ত করার দরকার নেই।”
রবিবার (২১ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তবে রেকর্ডসংখ্যক প্রাণহানির এই চরম সংকটে সরকারের এই আত্মতৃপ্তিমূলক বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রবিবার এক বিবৃতিতে টিকাদান কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, “গত ১৬ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা শোনার পর আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ৫ এপ্রিল থেকে হামের গণটিকা দেওয়া শুরু করি।”
মাত্র এক মাসের মধ্যে এই বিশাল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের মতো জনবহুল দেশে জনস্বাস্থ্য ইতিহাসে এটি একটি অসাধারণ ও উদাহরণযোগ্য ঘটনা। এটি আমাদের সাফল্য, সরকারের এ সাফল্য সেলিব্রেট (উদযাপন) করা উচিত।”
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, ‘‘গাফিলতি তো আছেই। আমরা তো এটা বলেই দিয়েছি। তাদের গাফিলতির জন্যই তো ২০২৪-২৫-এর যে টিকার রাউন্ড, সে রাউন্ডটা পুরোপুরি মিস করা হয়েছে। হ্যাঁ, ভ্যাকসিনের কোনো প্রকিউরমেন্ট (চাহিদা নির্ধারণ) হয়নি। পরিবার পরিকল্পনার এই যে গর্ভনিরোধক উপকরণ, এগুলোরও প্রকিউরমেন্ট হয়নি। এখানে গাফিলতি আছে, এটা নিঃসন্দেহে আমরা বলতে পারি। এটার জন্য কোনো তদন্ত করার দরকার নেই।”
সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভসরকারি এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেন এবং স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত ২০ বছরের মধ্যে এই সর্বোচ্চ প্রাণহানিকে আড়াল করে একে ‘সাফল্য’ হিসেবে প্রচার করাকে অনৈতিক বলছেন নেটিজেনরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতেই এ বছর এ পর্যন্ত ৬৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে
১৬ মার্চ প্রথম মৃত্যুর পর ৫ এপ্রিল (প্রায় ২০ দিন পর) টিকাদান শুরু করাকে ‘দেরি’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে অনেক শিশুর জীবন বাঁচানো যেত বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
নাহিদ ভূইয়া নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘ঠিক, ৭০০ মৃত বাচ্চার বাবা-মা কেক কাটবে, শ্যাম্পেন ছিটাবে, ইলেক্ট্রনিক ড্যান্স মিউজিকে উদ্দাম নৃত্য করবে!’’
জেবা সাজিদা শশী লিখেছেন, ‘তা কত গুলো বাচ্চার লাশের উপর দাঁড়িয়ে সেলিব্রেট করবেন ভাবছেন?’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি শেষ করা ইতিবাচক হলেও, ব্যাপক মৃত্যু ঠেকাতে না পারাটা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা। শুধু টিকাদানের গতি দিয়ে এই দুর্যোগের ভয়াবহতাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এই মুহূর্তে আত্মতৃপ্তিতে না ভুগে মাঠপর্যায়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।