আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলেও তাঁর পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি এমন মন্তব্য করে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সমর্থিত ছাত্রলীগের সভাপতি গৌতম শীল। গতকাল গভীর রাতে তাঁর পারিবারিক শ্মশানঘাট ও লাইব্রেরির জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে একদল সংঘবদ্ধ ব্যক্তি হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে গৌতম শীল দাবি করেন, গতকাল গভীর রাতে প্রায় দেড়শ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের পারিবারিক শ্মশানঘাট ও লাইব্রেরির জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে চড়াও হয়। হামলাকারীরা ভাড়াটে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে তাঁর বাবা, জেঠু (চাচা) ও দাদার ওপর শারীরিক হামলা ও চরম অসদাচরণ করেছে।
গৌতম শীল বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে আমি নিজে হামলার শিকার হয়েছি, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি হয়েছি, একাধিক বার কারাবাসও করেছি। কিন্তু তখনও আমার পরিবার, বাবা-জেঠু-দাদা এবং আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিরাপদ ছিল।” তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি আস্তে আস্তে সব কিছুই বলবো। এখানে কারা জড়িত তা প্রকাশ করা হবে; অনেক বিএনপি নেতার লুঙ্গি খুলে পড়বে, প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি এবং সামাজিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্মশানঘাট দখলের এই অপচেষ্টা শুধু ভূমিদস্যুতা নয়, এটি মানবিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপরও এক চরম আঘাত। সভ্য সমাজে প্রবীণ মানুষদের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে গতকালকের ভূমিকার জন্য সাধুবাদ জানাই। একই সাথে তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
নিজের পরিবারের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনসহ এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন গৌতম শীল। এই ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।