সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

কারাগারে সাতকানিয়া যুবলীগ নেতার মৃত্যু, রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত নুরুল আলম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন।

কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এটিকে স্বাভাবিক বা অসুস্থতাজনিত মৃত্যু দাবি করলেও, আওয়ামী লীগ ও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একে ‘পরিকল্পিত হেফাজতি হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় নীল নকশা’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে গত রবিবার সাতকানিয়া থানা পুলিশ নুরুল আলমকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। স্বজনদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং তাঁর পরনের পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়ার আগেই গতকাল সোমবার সকালে কারাগারের ভেতর তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।

নিহতের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফরিদপুরের ছাত্রলীগ কর্মী প্রান্তর মৃত্যুর ঘটনার পর পরই চট্টগ্রামে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। কারাগারের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং একে ‘কারাগারকে মৃত্যুফাঁদে রূপান্তর’ করার শামিল বলে অভিহিত করছেন।

কারা প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আলম কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাহাসপাতালে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকজনিত কারণে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়া ও চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন