আইনি লড়াইয়ে আপাতত বড়সড় স্বস্তি পেলেন টলিউড অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের (FIR) কার্যকারিতার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মিমির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না রাজ্য পুলিশ।
বুধবার (২৪ জুন) কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রদান করেন। বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আয়োজক ও বিজেপি নেতা তনয় শাস্ত্রীর সঙ্গে মিমির বিরোধের জেরেই এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত।
ঘটনাটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের। গত ২৫ জানুয়ারি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জে একটি বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে মিমির উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল রাত সাড়ে ১০টায়, কিন্তু তিনি পৌঁছান প্রায় রাত পৌনে ১২টায়। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী রাত ১২টার পর মাইক বা অনুষ্ঠান চালানোর অনুমতি না থাকায়, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়। তনয়ের দাবি, সময় স্বল্পতার বিষয়টি মঞ্চে জানানো হলে অভিনেত্রী অপমানিত বোধ করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হেনস্থার মিথ্যা পাল্টা অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে মিমির করা মামলার ভিত্তিতে তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং তাঁকে কিছুদিন জেল হেফাজতে থাকতে হয়।
কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর গত ২ মার্চ বনগাঁ আদালতে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পাল্টা দুটি মামলা দায়ের করেন তনয় শাস্ত্রী। তনয়ের পক্ষে তাঁর আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সে সময় জানিয়েছিলেন, “চুক্তি অনুযায়ী অনুষ্ঠান না করেও মিমি ২ লক্ষ ৬৫ হাজার রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। এছাড়া মিথ্যা অভিযোগে আমার মক্কেলকে সংশোধনাগারে পাঠিয়ে সামাজিক সম্মানহানি করা হয়েছে।” এই আচরণকে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে পারিশ্রমিক ফেরত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি মিমির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার ফৌজদারি ও মানহানি মামলা করা হয়। পরবর্তীতে গত ১১ জুন বনগাঁ থানায় মিমির বিরুদ্ধে একটি নতুন এফআইআরও দায়ের করেন তনয় শাস্ত্রী।
বনগাঁ থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই নিজের আইনি সুরক্ষা ও রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আপাতত অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না এবং এফআইআর তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের পর মিমির শিবিরে স্বস্তি ফিরলেও, অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।