সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আলী খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নিচ্ছেন দেড় থেকে ২ কোটি মানুষ, কাভার করবেন ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিতব্য এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে প্রায় দেড় থেকে ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঐতিহাসিক এই আয়োজন কাভার করতে ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ইরানে এসে পৌঁছেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে দেশটির সংস্কৃতি ও ইসলামী দিকনির্দেশনাবিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি জানান, খামেনির জানাজা উপলক্ষে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এটিই হবে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যানুষ্ঠান।

“খামেনির জানাজা শুধু একজন নেতাকে জাতির শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান নয়; এটি জাতীয় শক্তি, সামাজিক সংহতি এবং শত্রুদের মোকাবেলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরোধক্ষমতারও বহিঃপ্রকাশ।”
— আব্বাস সালেহি, সংস্কৃতিমন্ত্রী, ইরান

সংস্কৃতিমন্ত্রী সালেহি বলেন, দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্ববাসীর কাছে এই ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে কাজ করবেন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা। শেষকৃত্যের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে ধরে রাখতে ইরানের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের একটি বিশেষ দল জানাজা ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র নির্মাণ করছে। পাশাপাশি ব্যাপক আলোকচিত্র কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী সালেহি যোগ করেন, আগামী সপ্তাহটি ইরানি জনগণের আবেগঘন অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিল্পীদের জন্যও স্মরণীয় সৃষ্টিকর্ম তৈরির এক অনন্য সুযোগ হয়ে উঠবে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল শোকযাত্রা। ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে শোকানুষ্ঠান। ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে শোকানুষ্ঠান। ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে এই আনুষ্ঠানিকতা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন