সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সৌর বিদ্যুতে বিশেষ মনোনিবেশ সরকারের: প্রতিমন্ত্রী অমিত

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে যশোর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে ‘এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ এবং জিলা স্কুলের ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেশের জ্বালানি খাতের অতীত ও বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ডিজেল এবং ফার্নেস অয়েল নির্ভর ছিল। পরবর্তীতে তা গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক করা হলেও, এগুলোর প্রায় সবগুলোই প্রকৃতির কোনো না কোনো ক্ষতিসাধন করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান বাজেটে স্কুলের ইলেকট্রিক বাইকের ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীতে প্রথমে দেশের সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে এমন এক আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পাশাপাশি তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এবং প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে পাঠদানকে শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দময় করে তুলতে হবে। এটিই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মূল উদ্দেশ্য। লেখাপড়ার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার প্রতি আরও বেশি অনুরাগী হবে।

শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লেখাপড়া শেষ করে তোমাদের মেধা ও যোগ্যতা বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ব্যয় করতে হবে। তোমরা কেউ যেন ভুল পথে পা না বাড়াও, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। অনেক বন্ধু তোমাদের তথাকথিত ‘অ্যাডভেঞ্চারের’ কথা বলে ক্ষতিকর পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে, সেখান থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, জীবনের সকল ক্ষেত্রে জয়-পরাজয় থাকবেই। জীবন যেখানে আটকে যায়, সেখান থেকেই নতুন উদ্যমে পথ চলা শিখতে হয়। কোনো অবস্থাতেই থেমে থাকা চলবে না।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রতিমন্ত্রী যশোর জিলা স্কুলের ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে, ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ভবনটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ টাকা।

পৃথক দুটি পর্বের এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুক আযম মুঃ আব্দুস ছালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন