সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের ইতিহাস আরও বেশি ভাগাভাগি করতে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর

বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের ইতিহাস আরও বেশি ভাগাভাগি করতে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশান-২-এর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত ‘আমেরিকান ফেয়ার ইন দ্য পার্ক’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এ কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে সাত দিনব্যাপী ‘আমেরিকা উইক ২০২৬’ আয়োজন করেছে মার্কিন দূতাবাস। এই মেলার সহযোগী হিসেবে ছিল গুলশানের বাসিন্দাদের সংগঠন গুলশান সোসাইটি।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়। মেলার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো ছিল, আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম যেখানে ছবির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা অর্জন এবং রাষ্ট্র গঠনের যাত্রা তুলে ধরা হয়। মেলায় মোট ৮টি স্টল ছিল, যার মধ্যে ৪টিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী আমেরিকান খাবার। এছাড়া ইএমকে সেন্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি ‘হামিম টেক্সটাইল’-এর বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করতে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করে মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের (২৫ আইডি) ‘ইউএস আর্মি ব্যান্ড’।

ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস আরও বেশি ভাগাভাগি করতে চাই এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকার ইতিহাস বিশ্বের বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের অনেক মানুষও সেই অনুপ্রেরণার অংশ।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাস শুধু দেশটির নিজস্ব ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বের বহু মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামও সেই অনুপ্রেরণার ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রায় ২৫০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ জন প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতা ও আত্মশাসনের জন্য নিজেদের সবকিছু ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। তাঁদের সেই আত্মত্যাগ, আদর্শ ও মূল্যবোধের ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের লক্ষ্য।

রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকার কর্মসূচি শেষে তিনি রাজশাহী ও সিলেট সফর করবেন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধি পাবে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র যেমন বাংলাদেশকে আরও ভালোভাবে জানতে চায়, তেমনি বাংলাদেশও যেন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কাছ থেকে জানার সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত বলেন, গুলশান এলাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে নানা আয়োজনে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে আরও কাজ করতে চাই।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন