ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কয়েকটি সচ্ছল হিন্দু পরিবার নীরবে নিজেদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিক্রি করে ভারতে চলে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি পরিবার গোপনে নিজেদের সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ‘জননী ইলেকট্রনিক্স’-এর মালিক কালিপদ সহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী সম্প্রতি নীরবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে দেশত্যাগ করেছেন। তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরই কেবল স্থানীয়রা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারেন।
মহেশপুর বণিক সমিতির সাবেক সেক্রেটারি আব্দুস সেলিম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নন্দলাল দত্ত জানান, পরিবারগুলো অত্যন্ত গোপনে ভারতে পাড়ি জমাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে পরবর্তীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যরাও একই পথে হাঁটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
দেশত্যাগের পাশাপাশি মহেশপুরে স্থানীয় কিছু জটিলতাও প্রকাশ পেয়েছে। উপজেলার একটি এলাকায় দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে। যা স্থানীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এর আগেও সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটে। এর বাইরেও ২০১৮ ও ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে অনেকে দেশান্তরী হয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মহেশপুর এলাকার হিন্দু পরিবারগুলোর ভারত গমনের মূল কারণ হিসেবে গোপন সম্পত্তি বিক্রি এবং তা স্থানান্তরের প্রবণতাটিই প্রধান হিসেবে উঠে এসেছে।